ঢাকা, শুক্রবার   ২০ মে ২০২২ ||  জ্যৈষ্ঠ ৫ ১৪২৯

অপ্রস্তুত হয়ে যাই হঠাৎ করে এমন প্রশ্নে : নুহাশ হুমায়ূন

সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:২২, ২৯ এপ্রিল ২০২২  

নুহাশ হুমায়ূন

নুহাশ হুমায়ূন

দেশের জাতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের লাইভ অনুষ্ঠানে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে এক প্রশ্নে বিব্রত হয়েছেন তার ছেলে নুহাশ হুমায়ূন। এনিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তিনি। এই তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেন, সাক্ষাৎকারে কিছু প্রশ্ন আপত্তিকর ছিল। হঠাৎ করে এমন প্রশ্নে অপ্রস্তুত হয়ে যাই। নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টে তিনি এ কথা বলেন, যা হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘সবাইকে ধন্যবাদ, আপনাদের সহানুভূতি, সুচিন্তিত মতামত এবং ভালোবাসা নিয়ে আমার পাশে থাকার জন্য। আমার সাক্ষাৎকারের অভিজ্ঞতা জানানোর পর, অনেকেই তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। দেখলাম, আমিই প্রথম এমন মানুষ না যে মিডিয়ার সামনে অপ্রস্তুত হয়েছি, আর অপমানিত বোধ করেছি। এর মধ্যে ভালো লাগছে যে আমি আমার অনুভূতির কথা সরাসরি লিখেছি, অনেকে হয়তো তাদেরটা বলতে পারেননি।’

“আবার খেয়াল করলাম, অনেক পেজ, সঞ্চালকের ছবি দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করছেন। আমি কোনোভাবেই এ ধরনের সাইবার বুলিং সমর্থন করি না। আমি মনে করি, কিছু প্রশ্ন আপত্তিকর ছিল, কিন্তু হয়তো এখন মিডিয়ায় এইটাই একটা প্রবণতা হয়ে গেছে। এর সমাধান করতে চাইলে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন তারা শ্রদ্ধাশীল থাকেন। কিন্তু কোনোভাবেই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবহারের উত্তর সেরকম ব্যবহার হওয়া উচিত নয়। শেষ ‘ষ’ এর পর্বে একটা লাইন ছিল ‘দোষের চেয়ে বিচার বেশি’ সেই অবস্থা যেন না হয়।”

“আমি চাই, ইন্টারভিউয়ের আগে কি নিয়ে আলোচনা হবে, সেটার স্বচ্ছতা থাকুক। প্রথম আলো ক্যাফে লাইভের ইন্টারভিউয়ের আগে আমাকে বলা হয়েছে এটা মূলত ‘ষ’ নিয়ে আলোচনা। হয়তো কিছু কথা হবে বাবাকে নিয়ে। আমি সেটার জন্যই প্রস্তুত ছিলাম।”

‘অতীতে আমার পরিবার নিয়ে আন্তরিকভাবেই ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ইন্টারভিউ দিয়েছি। সেখানে আমার জীবনে আমার মায়ের ভূমিকার কথা বলেছি, বাবাকে নিয়ে কথা বলেছি। কিন্তু এই ধরনের ইন্টারভিউয়ের জন্য মানসিক প্রস্তুতি লাগে। আমি হঠাৎ করে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে অপ্রস্তুত হয়ে যাই।’

‘এটা মনে করিয়ে দিতে পারি, আমি ১৯ বছর বয়সে আমার বাবাকে হারিয়েছি। আমি আমার বাবাকে ঠিকভাবে বিদায় জানাতে পারিনি, কারণ চারদিকে ছিল ক্যামেরা আর সাংবাদিক। একটা মুহূর্ত একা তার পাশে বসতে পারিনি তাকে শুইয়ে দেওয়ার আগে! তাই হঠাৎ যদি লাইভ অনুষ্ঠানে আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়, বাবা আমার জীবনে না থাকলে সেটা কেমন হতো- আমি অপ্রস্তুত হয়ে যাই। আমার জন্য এই বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর। এছাড়া আমার মনে হয়, আমার জীবনে বাবার ভূমিকা নিয়ে কথা বলার জন্য-বাবা জীবনে না থাকলে কি হতো/কেমন হতো এই প্রশ্নগুলো খুব একটা শ্রদ্ধাশীল নয়।’

‘আমার খুব ভালো লেগেছে, আমি কয়েকদিন আগে রাহাত রহমানের সঙ্গে একটা পডকাস্ট করেছি। সেখানে তিনি জানতে ছেয়েছেন, কীভাবে দেশের বাইরে বিভিন্ন অনুদানের জন্য আবেদন করা যায়। যেহেতু আমি সানডেনস চলচিত্র উৎসবে, ফিল্ম ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং স্লোয়ান সামিটে অংশগ্রহণ করেছি। আরেকটা সাক্ষাৎকারে কথা বলেছি আমার বাবার লেখা উপন্যাসের মধ্যে কোনটা আমার সবচেয়ে প্রিয় তা নিয়ে। এটাকে ভিজুয়াল মিডিয়ায় রূপ দেওয়ার জন্য কে হতে পারেন সবচেয়ে যোগ্য সহযোগী। এসব সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তরুণ সঞ্চালকরা। আর সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ই বোঝা গেছে তারা আমার কাজ নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকেও আমি সেটাই আশা করি।’

“আমি যেসব কাজ করেছি, যতটুকু করেছি এবং যেখান থেকে আমি এসেছি- সব কিছু নিয়ে আমি খুব বিনয়ের সঙ্গেই গর্বিত। আমার নিজের অর্জন বা সাফল্য নিয়ে কথা বললে দেখি অনেকেই খুব বিরক্ত হয়। কিন্তু সম্পূর্ণ অজানা একজন মানুষের সাফল্যে কেন তাদের এত বিরক্ত করে সেটাও বুঝি না! আমার মনে হয়, আমাদের শেখানো হয়, আমাদের অর্জনের কথা শুধুমাত্র সিভিতে লেখা যাবে, মুখে বলা যাবে না। মুখে বলার মানে হল, ‘সে খুব অহংকারী’, ‘বড় বড় কথা বলে’ অথবা ‘নিজেকে কি মনে করে’। এই ধারণা পাল্টানো দরকার। নিজেদের অর্জনের কথা মাথা উঁচু করেই বলা উচিত।”

সর্বশেষ
জনপ্রিয়