ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

এবার ‘অধিকারের পক্ষে’ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বার্গম্যান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:১৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

ডেভিড বার্গম্যান

ডেভিড বার্গম্যান

মানবাধিকারের নামে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও বিদ্বেষ ছড়ানোর দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান ও পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলানের পক্ষে ‘ওকালতি’ শুরু করছেন একসময় বাংলাদেশে বসবাসকারী কথিত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান।

মূলত যে মিথ্যা ছড়ানোর জন্য আদিলুর ও এলানের জেল হয়েছে সেই একই মিথ্যা তথ্য তুলে ধরে অপপ্রচার চালাচ্ছেন এই কথিত ব্রিটিশ সাংবাদিকও।

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানী ঢাকার মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং তথ্য বিকৃতির অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আদিলুর রহমান খান ও তার প্রধান সহযোগী নাসির উদ্দিন এলানের ২ বছর করে কারাদণ্ড হয়। সেই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এরপর থেকে এইচআরডব্লিউ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতো কয়েকটি মানিবাধিকার সংস্থার বক্তব্য ও প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়াচ্ছেন ডেভিড বার্গম্যান। মূলত তা অধিকারের মিথ্যা প্রতিবেদনের বরাত দিয়েই করা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্ট করে এই কথিত সাংবাদিক বলেন, ‘অধিকারের রিপোর্টে বলা হয়, ৬১ জন নিহত হয়েছে। পরবর্তীকালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে যা অধিকারের দেয়া সংখ্যাকেই সমর্থন করেছিল। তাদের (এইচআরডব্লি) রিপোর্টে ‘কমপক্ষে ৫৮ জন’ নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছিল।’

অথচ এইচডব্লিউ ও অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনগুলো অধিকারের প্রতিবেদনগুলোরই বরাত দিয়ে করা হয়েছিল। যা বার্গম্যান নিজেও স্বীকার করেছেন।

মূলত বেশ আগে থেকেই আদিলুর ও এলানের বিরুদ্ধে মামলা ও এর বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করা ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করে আসছিলেন বার্গম্যান। সেই লক্ষ্যেই আদিলুরের মামলার রায়ের একদিন আগেই এ বিষয়ে তসনিম খলিলের বিতর্কিত সংবাদমাধ্যম নেত্রনিউজে একটি নিবন্ধ লেখেন তিনি। সেখানে তিনি সরকার ও বিচার প্রক্রিয়াকে টার্গেট করেন।

ডেভিড বার্গম্যান অনেক বছর বাংলাদেশ অবস্থান করেছেন এবং একটা বিশেষ শ্রেণির এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের এজেন্ট হিসেবে এবং লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বেতনভুক্ত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করারও অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে সরাসরি জড়িতদের বিচারের বিরোধিতা করে নিজের ব্লগে লেখালেখি করে তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। অধিকাংশ লেখাতেই তিনি শুধু সেসব মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীতে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধে আন্তর্জাতিক লবিং করেছিলেন তিনি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার দায়ে ২০১৪ সালে বার্গম্যানকে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে বার্গম্যানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। এরপরও বাংলাদেশ ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার থামাননি তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ডেভিড বার্গম্যান হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি প্রতিহিংসার বর্শবর্তী হয়ে সাংবাদিকতা করেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করাই যার মূল লক্ষ্য। তারই ধারাবাহিকতায় এবার অধিকারের আদিলুর ও এলানের বিষয় নিয়ে মাঠে নেমেছেন তিনি।

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়