ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.১২ শতাংশ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৪, ১০ জুলাই ২০২৪  

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.১২ শতাংশ

জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬.১২ শতাংশ

বর্তমানে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ ২০২৪) ত্রৈমাসিক দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাব প্রাক্কলন করা হয়েছে। প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ের থেকে প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। বিদায়ী অর্থবছরে তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প, সেবা ও কৃষি-সব খাতেই প্রবৃদ্ধির হার অনেকটা বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ০৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে শিল্প খাতে।

গত জানুয়ারি-মার্চ সময়ে স্থির মূল্যে জিডিপিতে যুক্ত হয়েছে ৮ লাখ ৬৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য। বিবিএস জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের হিসাব অনুযায়ী চলতি মূল্যে জিডিপির আকার ১৩ হাজার ৪৭৮ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ১১ হাজার ৪৪৩ বিলিয়ন টাকা।

পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশ, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৩০ শতাংশ, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ও ৭ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোয়াটার্লি ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টস ম্যানুয়াল অনুযায়ী কোনো কোয়ার্টারের জিডিপির প্রথম প্রাক্কলনের সময় হালনাগাদ সব তথ্য-উপাত্ত বিদ্যমান থাকে না বিধায় পরবর্তীতে তা সংশোধনের প্রয়োজন হয়।

ফলে পূর্ববর্তী কোয়ার্টারের প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। বিবিএসের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক থেকে ত্রৈমাসিক জিডিপির হিসাব প্রাক্কলন করে আসছি। জিডিপির ত্রৈমাসিক হিসাবে রিয়েল ডাটা (প্রকৃত উপাত্ত) ধরে করা হয়। আর বাৎসরিক প্রাক্কলন প্রতিবেদন তৈরি করা হয় অনুমানের ভিত্তিতে। সে হিসাবে জিডিপির ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন অনেকটাই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, শুধু জিডিপির অর্জনের দিকে বেশি মনোযোগ না দিয়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেওয়া উচিত। ড. আতিউর রহমান বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি কমানোতে। এজন্য সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করতেই হবে। ব্যাংক সুদের হার বেশি না হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তিনি। একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে পণ্যের সরবরাহ। বতর্মানে দেশের ১৮ জেলায় বন্যা হচ্ছে উল্লেখ করে ড. আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।  
কৃষি খাত ॥ পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ ও ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৮৮ শতাংশ যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ ও ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
শিল্প খাত ॥ পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ ও ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ ও ১০ শতাংশ।
সেবা খাত ॥ পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ ও ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। বিবিএস জিডিপির প্রান্তিক হিসাব প্রকাশ করে বলছে, জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বিবিএস নিয়মিতভাবে স্থূল জিডিপি প্রাক্কলন করে থাকে। সরকারের ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বরের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীকালে আইএমএফের পরামর্শ মোতাবেক বিবিএসের মাধ্যমে ত্রৈমাসিক স্থূল দেশজ উৎপাদন প্রাক্কলনের কার্যক্রম নেওয়া হয়।
জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নিয়মিতভাবে স্থূল দেশজ উৎপাদ (জিডিপি) প্রাক্কলন করে থাকে। ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তীতে আইএমএফের পরামর্শ মোতাবেক বিবিএস ত্রৈমাসিক স্থূল দেশজ উৎপাদ প্রাক্কলনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। জাতীয় হিসাব পরিসংখ্যানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণসহ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নীতি নির্ধারণে কিউজিডিপি প্রণয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় বিবিএস ২০১৫-১৬ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত অনুমোদিত বার্ষিক জিডিপির আলোকে প্রাক্কলন করা হয়। উল্লেখ্য, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বিবিএসও উৎপাদন পদ্ধতিতে কিউজিডিপি প্রাক্কলন করছে। তবে বার্ষিক জিডিপি উৎপাদন ও ব্যয় পদ্ধতিতে প্রাক্কলন ও প্রকাশ করা হয়। কিউজিডিপি প্রাক্কলনের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির হ্রাস বৃদ্ধির প্রবণতা পরিমাপ করাসহ সিজনাল এডজাস্টমেন্ট বিবেচনায় হাই ফ্রিকোয়েন্সি ইনডিকেটরস প্রণয়নে অন্যতম নির্দেশক হিসেবে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ উপাদক হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টার হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে ত্রৈমাসিক জিডিপি প্রাক্কলন ও প্রকাশ করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়