ঢাকা, শনিবার   ১৩ জুলাই ২০২৪ ||  আষাঢ় ২৮ ১৪৩১

ধর্মশালা: তিব্বতি শরণার্থীদের বাসস্থান

ফিচার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৪৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

হিমাচল প্রদেশের কাংগ্রা উপত্যকার প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হলো ধর্মশালা। ছোট পাহাড়ি শহরটির একদিকে ধৌলাধার পাহাড়ের রেঞ্জ আর অন্যদিকে উর্বর উপত্যকার শিবালিকের রেঞ্জ। দলাই লামার প্রচেষ্টায় এই শহরেই গড়ে উঠেছে তিব্বতি শরণার্থীদের বাসস্থান।

ধর্মশালার রূপের বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। শেষ করা যাবে না বলার চাইতে মনে হয়, করা যায় না এই শব্দটিই অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত। কেননা, সৃষ্টির শুরু থেকে আজ অবধি রূপের যে ঝলক ধর্মশালা দেখিয়ে আসছে তার বর্ণনা এখানে মাত্র কয়েকটি শব্দ দিয়ে কীভাবে করা সম্ভব? ধর্মশালার অবস্থান ভরতের হিমাচল প্রদেশে। হিমালয়ের পাদদেশের ধর্মশালা সবুজ বন আর সুউচ্চ পাহাড়ের অপার সৌন্দর্যে অনাদি কাল থেকেই বিশ্বের ভ্রমণ পিপাসুদের তৃষ্ণা মিটিয়ে যাচ্ছে।

ধর্মশালার মূল বাসস্ট্যান্ড থেকে খানিকটা দূরেই দলাই লামার বুদ্ধ মন্দির। সেখানে সুন্দর একটি জাদুঘরও রয়েছে। সোমবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি দিনগুলোয় খোলা থাকে সকাল দশটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত। তাছাড়া কাতুয়ালি বাজারের কাছেই রয়েছে কাংড়ি মিউজিয়াম। আপার ম্যাকলয়েডগঞ্জ থেকে পাঁচ কিলোমিটার চড়াই ভেঙে পৌঁছে যাওয়া যায় নাড্ডি। পাহাড়ঘেরা অপূর্ব মায়াবী পরিবেশ এখানে।

ধর্মশালা থেকে ডালহৌসির দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার। বাসে অথবা গাড়িতে যেতে পারেন। এই শৈল-শহরের সঙ্গে ব্রিটিশরা স্কটল্যান্ডের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। একদিকে ধৌলাধার আর অন্যদিকে পিরপঞ্জাল পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা এই জায়গাটি চোখ ফিরিয়ে নিতে দেয় না সহজে। পাহাড়ের গায়ে পাথর কেটে প্রচুর চার্চ তৈরি করা আছে এখানে। প্রতিটি গির্জার নির্মাণ শৈলী ও গ্লাস পেইন্টিংয়ের অনুপম নিদর্শন মন ছুঁয়ে যায়।

ডালহৌসিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত একটি বাড়িও রয়েছে। তিনি সেখানে কয়েকদিন ঘুরে বেড়িয়েছেন। বর্তমানে সেই বসতবাড়িতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর লোকেরা থাকেন। দীর্ঘদিন স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় জেলে কাটানোর পরে এখানে বেড়িয়েছিলেন সুভাষচন্দ্র বসু। বাসস্ট্যান্ড থেকে তিন কিলোমিটার দূরে তার বাড়ি এবং ছায়াঢাকা ‘সুভাষ বাউলি’ প্রস্রবণটি আজও তার স্মৃতি বিজড়িত। সেখান থেকে দু’কিলোমিটার দূরে সাতধারা ঝরনার অবস্থান।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়