ঢাকা, মঙ্গলবার   ০৪ অক্টোবর ২০২২ ||  আশ্বিন ১৯ ১৪২৯

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত আছে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:০৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২  

সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ

সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ

সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে উত্তেজনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়োজিত আছে। যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ। গতকাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘বৈশ্বিক শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস-২০২২ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের সেনামালঞ্চে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সেমিনারে জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ ‘বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা’ বিষয়ে এবং সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত শহীদুল হক ‘বিশ্ব শান্তি সংরক্ষণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগের ৫০ বছর’ সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। এতে মডারেটর ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আনোয়ার হোসেন। সহ-আয়োজক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আতিকুল ইসলাম।

সেনাপ্রধান বলেন, সীমান্তে মিয়ানমারের সঙ্গে উত্তেজনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিয়োজিত আছে। সব ধরনের ব্যবস্থা এরই মধ্যে সম্পন্ন করা আছে। প্রয়োজন অনুযায়ী যখন যা করতে হবে, তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী। সে লক্ষ্যে সেনাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। প্রধানমন্ত্রীকে সব হালনাগাদ তথ্য জানানো হচ্ছে।

জেনারেল এসএম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, উগ্রবাদী একটি গোষ্ঠী সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কোনো অংশগ্রহণ নেই এখানে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সব পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জনগণকে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, শোষণ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত করে শান্তি, সাম্য, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গবন্ধু আজীবন সংগ্রাম করেছেন। জনগণের জন্য তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শান্তির ধারণা। ১৯৭২ সালের সংবিধানের চারটি মূল নীতিতে এ ধারণাগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে এবং সুবিধাবঞ্চিতদের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমেই সংবিধানের সফল প্রতিপালন সম্ভব।

তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি রক্ষায় যেমন কূটনীতিকদের ভূমিকা রয়েছে, তেমনি সংসদ সদস্যরাও সংসদীয় কূটনীতির চর্চা করেন। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীনে পরিচালিত শান্তি রক্ষা কার্যক্রমগুলোয় বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অবদান রয়েছে। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে শীর্ষ শান্তিরক্ষী পাঠানো দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আজ শান্তি ও সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।

সেমিনারে নৌ ও বিমান বাহিনীপ্রধান, আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের সামরিক উপদেষ্টা ও ডিফেন্স অ্যাটাশে, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, সশস্ত্র বাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে আমন্ত্রিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সর্বশেষ
জনপ্রিয়