ঢাকা, শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় যতদিন প্রয়োজন সেনাবাহিনী থাকবে: বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৩৩, ৬ জুলাই ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, সুনামগঞ্জে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, জনগণ সবাই কাজ করেছেন। সবার সহযোগিতায় সুনামগঞ্জবাসী ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন। এখন শুরু হবে পুনর্বাসনের কাজ।বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় এখানে সেনাবাহিনী যতদিন প্রয়োজন ততদিন থাকবে। প্রধানমন্ত্রী যেদিন বলবেন সেদিন চলে যাবে।

সুনামগঞ্জ জেলা আইনশৃঙ্খলা ও ত্রাণ কার্যক্রমসহ সার্বিক কার্যক্রম বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।

সরকারের ত্রাণ তৎপরতা নিয়ে সমালোচনার জবাবে বিএনপিকে উদ্দেশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দিবাস্বপ্ন দেখছে। তারা জনগণ থেকে দূরে সরে গিয়েছে। জনগণ তাদের ত্যাগ করেছে। কাজের তারা অনেক কথাই বলেন যেগুলোর বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। সরকার কি করছে না করছে আপনারা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী ওই দিন রাতে ঘুমাননি। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ডিসি, সেনাবাহিনীকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন যতটুকু সামর্থ্য আছে ব্যবস্থা নেওয়ার। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে বলেই আমাদের সবাই পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি না এলাকার জনগণ যারা নেতৃত্বে দিয়েছেন বলেই আমরা এ জায়গাতে আসতে পেরেছি।

তিনি বলেন, বন্যার পানি নামছে- এই মুহূর্তে বেশি দরকার ঘরবাড়ি নির্মাণ। প্রধানমন্ত্রী নিজে আপনাদের অবস্থান দেখে গেছেন। এ নিয়ে আপনাদের বেশি চিন্তা করতে হবে না। তাছাড়া আপনাদের পরিকল্পনামন্ত্রী রয়েছেন তিনি এ অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত আন্তরিক। আগামীতে নদী ড্রেজিং, গৃহ নির্মাণ, ব্যবসায়ীদের প্রণোদনাসহ  যা যা দরকার সবকিছু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সুনামগঞ্জের জন্য পুলিশের যেসব বাহন জরুরি সেসব বাহনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, এ বন্যায় সুনামগঞ্জের পরিচিতি আগের চেয়ে বেড়েছে। সবচেয়ে আনন্দের দিক মানুষের অংশগ্রহণ। মানুষের আয় বাড়ছে এটা শেখ হাসিনার কৃতিত্ব, এই সরকারের কৃতিত্ব। গত ১২ বছরের একটানা কর্মের ফলে গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষের আয় বেড়েছে; যারা মধ্যবিত্ত ছিল তারা উচ্চবিত্ত হয়ে গেছে। এর ফলে তারা মানুষকে সহায়তা করছেন। এটা বিরল ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- প্রথমে দুর্গতদের ত্রাণ দিতে হবে। পরে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত গৃহ ও সড়ক নির্মাণ করতে হবে। নিজের ভিটায় যেতে পারছে না হাজারও পরিবার। এসব মানুষের ছোট ছোট বসতঘর নির্মাণ করে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গত ৩০ বছরের নির্মাণ গ্রামীণ সড়ক শেষ হয়ে গেছে। এগুলো চলাচলের উপযোগী করতে হবে। সড়ক যেখানে ভেঙেছে, ওখানে সড়ক নয়, সেতু হবে। কৃষকদের ত্রাণের প্যাকেটের মতো সার-বীজের প্যাকেট দিতে হবে। সর্বোপরি সরকার, রাজনৈতিক কর্মী, সুশীল সমাজের লোকজন সবাই দুর্যোগ মোকাবিলার টিম হিসেবে কাজ করতে হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন- সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সেনাবাহিনীর পক্ষে ১১ পদাতিক ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শওকত ওসমান, র্যা বের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল মো. কামরুল হাসান, এডিশনাল ডিআইজি নূরুল ইসলাম, বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. আহম্মদ হোসেন, সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এনামুল কবির ইমন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রজত কান্তি সোম মানস, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান করুণা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুর রহমান সিরাজ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন, পিপি খায়রুল কবির রুমেন, জেলা শিল্পকলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুল আবেদিন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক লতিফুর রহমান রাজু, সাংবাদিক পঙ্কজ দে, মাসুম হেলাল প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় বক্তারা জানান, সুনামগঞ্জে ১২২ বছরের ইতিহাসে এরকম ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়নি। এবারের বন্যায় সুনামগঞ্জ জেলার বিশেষ করে জেলা শহরের মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। তাদেরও পুনর্বাসনের আওতায় আনতে হবে। সুনামগঞ্জ শহরকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্য শহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। যাদের ঘরবাড়ি ধসে গেছে দলমত নির্বিশেষে তাদের গৃহ নির্মাণে সহায়তা দিতে হবে। সর্বোপরি সুনামগঞ্জের সমস্ত নদীগুলোকে ড্রেজিংয়ের আওতায় আনতে হবে। এরকম অনেক যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন করেন।

মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং সদর উপজেলার সোনাপুর বেদেপল্লিতে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় তার সঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান, সুনামগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়