ঢাকা, শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: খুনি জিয়ার কালো আইন

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:৫৩, ৬ জুলাই ২০২২  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা দখলকারী রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়ার ১৯৭৯ সালের ৯ জুলাই জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংযুক্ত করা হয় একটি কালো আইন। যা ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার বন্ধ করার আইন। খুনিদের পুরস্কৃত করার আইন। যার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি।

পাকিস্তানের পরাজিত শক্তির প্ররোচনায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করে কিছু বিপথগামী সেনা। যার পেছনে কলকাঠি নেড়েছিল খোন্দকার মোশতাক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। ঘাতকের বুলেট শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির পিতাকেই হত্যা করেনি, হত্যা করেছিলো তার গোটা পরিবারকে। ঘাতকের বুলেট থেকে রক্ষা পায়নি ছোট্ট শিশু রাসেলও।

রক্তের দাগ তখনও শুকায়নি। জাতির পিতাকে হত্যার ৪২ দিনের মাথায়, ২৬ সেপ্টেম্বর কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে খুনি খোন্দকার মোশতাক। অধ্যাদেশে যে কোনো আদালতে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার বিচারের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। যেহেতু তখন সংসদ অধিবেশন ছিল না, সেহেতু ১৯৭৫ সালের এই দিনে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির পদ দখলকারী খুনি মোশতাক আহমেদ একটি অধ্যাদেশ আকারে ইনডেমনিটি জারি করেন।

বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারবর্গকে হত্যার পেছনে যারা জড়িত ছিল, তাদের শাস্তির হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল খোন্দকার মোশতাক ও তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। পরে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে ১৯৭৯-এর ৯ জুলাই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনি বৈধতা দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকারীদের পাকা-পোক্তভাবে দায়মুক্তি দেন খুনি জিয়া। যেন ভবিষ্যতে কেউ ১৫ আগস্টের খুনিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারে।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, পৃথিবীর বহু দেশে বিভিন্ন সময় বহু ঘৃণিত কালো আইন প্রণীত হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে যেভাবে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যাকারীদের বিচারের দায় থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স এবং পরে দায়মুক্তি আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল, সারা বিশ্বে তার নজির নেই। এই পাকিস্তানি দোসরার শুধু সেই তথাকথিত অধ্যাদেশ করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা প্রত্যক্ষ খুনিদের প্রমোশন দিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে লোভনীয় পদে পদায়ন করে।

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
সর্বশেষ
জনপ্রিয়