ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

দিল্লিতে শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদি বৈঠক

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশাবাদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:২৫, ১১ জুন ২০২৪  

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশাবাদ

বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশাবাদ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামীতে আরও দৃঢ় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত রোববার সন্ধ্যায় ভারতের নয়াদিল্লিতে মোদি সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠকে এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। 

গতকাল সোমবার সকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

 দুই নেতা আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর হবে। অত্যন্ত উষ্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নরেন্দ্র মোদিকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরে দুই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেন। ভারতের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল, আমন্ত্রিত সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা নৈশভোজে অংশ নেন। সেখানে তারা সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন। 

নরেন্দ্র মোদি গত ১০ বছর ধরে তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন এবং শেখ হাসিনাও ইতোমধ্যে ১৫ বছর ধরে তাঁর রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। একে অপরের কাছ থেকে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অনেক বিষয় জড়িত। যেহেতু উভয় সরকারের দেশ পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে, সেহেতু একসঙ্গে কাজ করার কিছু সুবিধা আছে।

উভয় দেশের জনগণ বিভিন্ন দিক থেকে উপকৃত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত এবং গভীর হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির আইটিসি মৌর্য হোটেলে গত রোববার রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে তাঁকে এবং এনডিএ জোটকে নির্বাচনে বিজয়ের জন্য আবারও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পর্যটন খাতে শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্রাতৃপ্রতিম দুই দেশের স্বার্থে বাংলাদেশের পর্যটন খাতে শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ চেয়েছেন। গতকাল সকালে তাঁর আবাসস্থল আইটিসি মৌর্য শেরাটন হোটেলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, পর্যটন খাতে এগিয়ে থাকা শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগ বাংলাদেশের পর্যটন খাতে কীভাবে আসতে পারে, তা নিয়ে দুই নেতা আলাপ-আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, দুই নেতা কৃষি এবং সমুদ্রে জাহাজ চলাচল সম্পর্কিত পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকটি মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট তাঁর দেশের সংকটময় মুহূর্তে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। শেখ হাসিনা শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে বিক্রমাসিংহে বলেন, বাংলাদেশ সফরের ব্যাপারে তাঁর ইচ্ছা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ জয়শঙ্করের
এদিকে, ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর আবাসস্থলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জয়শঙ্কর বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। আগামী দিনে এ সম্পর্ককে আরও উন্নীত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তারা।

ভারতের মন্ত্রী হওয়ার জন্য জয়শঙ্করকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।
জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমরা দুই দেশ সম্পর্ককে আরও উন্নত ও প্রসারিত করতে কাজ করছি।

নরেন্দ্র মোদির তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অন্যতম শীর্ষ বিশ্বনেতা হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে দিল্লি পৌঁছান। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মুক্তেশ পরদেশী বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি ভবনে সারাবিশ্ব থেকে আসা প্রায় আট হাজার অতিথির সঙ্গে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কন্যা ও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক সায়মা ওয়াজেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। 

এদিকে, গতকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দিল্লি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে স্থানীয় সময় বিকেলে নয়াদিল্লির ভিভিআইপি বিমানবন্দর পালাম এয়ারফোর্স স্টেশনে তাঁকে বিদায় জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) জয়দীপ মজুমদার, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. মুস্তাফিজুর রহমান।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়