ঢাকা, মঙ্গলবার   ১৮ জুন ২০২৪ ||  আষাঢ় ৪ ১৪৩১

হজ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৪৮, ৯ জুন ২০২৪  

হজ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত

হজ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত

ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম ইবাদত হলো হজ (আরবি: حَجّ)। এর শাব্দিক অর্থ হলো, সংকল্প করা। পরিভাষায়- নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট কার্যাবলির মাধ্যমে আল্লাহর ঘর বা বাইতুল্লাহ শরিফ জেয়ারত করা অথবা নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে বাইতুল্লাহ যাওয়ার সংকল্প করাকে হজ বলা হয়।

স্বাধীন এবং সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের জন্য জীবনে একবার হজ ফরজ। হাজি সাহেবরা মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তাআলার মেহমান। আল্লাহ তাদের দোয়া কবুল করেন। তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেন। মানুষের জীবন-মরণের নিশ্চয়তা নেই। তাই কারো ওপর হজ ফরজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আদায় করা বুদ্ধিমানের কাজ।

হজ স্বাধীন সামর্থ্যবান নারী-পুরুষের জন্য জীবনে একবার ফরজ। সামর্থ্যবান বলতে আর্থিক ও দৈহিক সামর্থ্য বোঝায়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘লোকসকল! আল্লাহ তাআলা তোমাদের ওপর হজ ফরজ করেছেন’। আকরা ইবনে হাবিস (রা.) দাঁড়িয়ে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এটা কি প্রত্যেক বছর ফরজ’? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আমি যদি হ্যাঁ বলতাম, তবে ফরজ হয়ে যেত। আর প্রতি বছর হজ ফরজ হলে তা তোমরা সম্পাদন করতে সক্ষম হতে না। হজ জীবনে একবারই ফরজ। কেউ যদি একাধিকবার করে, তবে তা হবে নফল হজ’। (বোখারি: ৭২৮৮)

হজ কবুলের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত

মকবুল হজ তথা হজ কবুলের জন্য আল্লাহর মেহমান হাজিদেরকে কোরআন-সুন্নাহ নির্দেশিত কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। হজের বিধি-বিধান ও মাসায়েল সংক্রান্ত আলেমদের আলোচনা ও কিতাবাদিতে এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তবুও হাজিদের আরেকবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এখানে হজ কবুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত নিয়ে আলোচনা করা হলো।

(১) আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত ও ইখলাস: আল্লাহ তাআলার আনুগত্য, সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও তার নির্দেশ পালনার্থে কোনো কাজ করার দৃঢ় সংকল্পকে নিয়ত বলে। ইবাদতে নিয়ত করার অর্থ হলো ইবাদতে হৃদয়কে হাজির রাখা, আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশা করা, ইবাদত কবুল হওয়ার প্রত্যাশা করা, সব কাজ আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করা। ইবাদত করার সময় আল্লাহ তাআলা দেখছেন বলে মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা। হাদিসে জিবরাঈলে বলা হয়েছে, ‘তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাকে দেখছ। যদি দেখতে না পাও (অন্তরে বিষয়টি হাজির করতে না পারো), তাহলে বিশ্বাস করো যে, তিনি তোমাকে দেখছেন’। (সহিহ মুসলিম: ৮)

রাসূলুল্লাহ (সা.) এর বাণী- ‘প্রত্যেক কাজের ফলাফল নিয়ত অনুসারে হয়। প্রত্যেক মানুষ তার কাজের ফলাফল আল্লাহর কাছে তদ্রূপ পাবে, যেরূপ সে নিয়ত করেছে’। (বুখারি: ১)

(২) রাসূলুল্লাহ (সা.) এর দেখানো পদ্ধতি তথা মুতাবাআ (অনুসরণ): যেকোনো ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য অবশ্যই রাসূলুল্লাহ (সা.) এর তরিকা অনুযায়ী হতে হবে। অন্যথায় ইবাদত কবুল হবে না। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল, যাতে আমার নির্দেশ (সুন্নাহ) নেই, তবে তা প্রত্যাখ্যাত’। (মুসলিম : ১৭১৮)

অতএব, হাজি সাহেব যেসব ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি জোর দেবেন তার অন্যতম হচ্ছে- ইখলাস ও মুতাবাআ।

(৩) হালাল সম্পদ থেকে হজ করা: হালাল সম্পদ দিয়ে হজ করতে হবে। কারণ হারাম সম্পদ দিয়ে হজ করা হারাম ও নাজায়েজ। বরং কোনো কোনো আলেম বলেছেন, এমন হজ শুদ্ধ হবে না। কেউ কেউ বলেন, যদি তুমি এমন সম্পদ দিয়ে হজ কর যে সম্পদের উৎস হারাম তাহলে তুমি যেন হজ করলে না; তোমার বাহনটা হজ করল। অর্থাৎ উট হজ করল।

হাদিসে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা পবিত্র; শুধুমাত্র পবিত্রটাই তিনি গ্রহণ করেন...’। (তিরমিজি: ২৯৮৯) পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ব্যয় কর তোমাদের অর্জিত হালাল সম্পদ থেকে’। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ২৬৭)

(৪) গুনাহের কাজ থেকে বিরত থাকা: হজ যেন রাব্বুর আলামিন আল্লাহর কাছে কবুল হয় সেজন্য আল্লাহর নিষেধকৃত বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকা চাই। গুনাহের মধ্যে রয়েছে পাপাচার, অবাধ্যতা, হারাম কথা, হারাম কাজ, বাদ্য শুনা ইত্যাদি। এক কথায় ইহরাম অবস্থায় যা কিছু শরিয়ত নিষিদ্ধ করেছে, সেসব থেকে বেঁচে থাকা।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে। যে ব্যক্তি সেসব মাসে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয় সে হজের সময় কোনো যৌনাচার করবে না, কোনো গুনাহ করবে না এবং ঝগড়া করবে না’। (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৯৭) রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনোরূপ অশ্লীল কথা বা গুনাহর কাজে লিপ্ত না হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে হজ সম্পন্ন করে, সে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে ফিরে আসে’। (বুখারি: ১৫২১)

(৫) কোমল ও সদাচারী হওয়া: হাজি সাহেবের উচিত- কোমল, সহজপ্রাণ ও উদার হওয়া। যতটুকু সম্ভব সহযাত্রীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা। কোনো মুসলমানকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা তার ওপর ফরজ। তা পবিত্র স্থানগুলোতে হোক কিংবা বাজারে হোক। হাজি সাহেব তাওয়াফকালে ভিড় করে কাউকে কষ্ট দেবেন না। সাঈকালে কাউকে কষ্ট দেবেন না। জমরাতে কাউকে কষ্ট দেবেন না। অন্যকোনো স্থানেও কষ্ট দেবেন না। মকবুল হজের জন্য এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে আমল করা বাঞ্ছনীয়।

এভাবে হজ আদায় করার জন্য হাজি সাহেব কোনো আলেমের সাহচর্যে থেকে হজ আদায় করতে পারেন। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে নির্ভরযোগ্য আলেমদের গ্রন্থ অধ্যয়ন করা উচিত; যাতে সুস্পষ্ট জ্ঞানের ভিত্তিতে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এবং আল্লাহর দরবারে যেন তার হজ কবুল হওয়ার যোগ্যতা রাখে। 
ইয়া আল্লাহ! সব হজযাত্রীকে মকবুল হজ নসিব করুন। আমিন।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়