ঢাকা, রোববার   ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||  মাঘ ২২ ১৪২৯

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছার মণ্ডা, স্বপ্নে পাওয়া মিষ্টির সুনাম ২০০ বছরেও কমেনি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৪, ১১ ডিসেম্বর ২০২২  

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছার মণ্ডা, স্বপ্নে পাওয়া মিষ্টির সুনাম ২০০ বছরেও কমেনি

ময়মনসিংহ মুক্তাগাছার মণ্ডা, স্বপ্নে পাওয়া মিষ্টির সুনাম ২০০ বছরেও কমেনি

মুক্তাগাছার মণ্ডা  বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছা উপজেলার একটি বিখ্যাত মিষ্টি। এই মিষ্টি প্রথম তৈরি করেন রাম গোপাল পাল। সময়টা ১৮২৪ সাল।

ময়মনসিংহ জেলার একটি উপজেলা মুক্তগাছা। জমিদার আচার্য চৌধুরী পরিবারসহ মুক্তগাছা শহরে বসবাস শুরু করেছিলেন। আরো আগে জায়গাটার নাম ছিল বিনোদবাড়ি।  তো, সেখানে জমিদার বসবাস শুরু করলে ঐ অঞ্চলের প্রজারা সাধ্যমত উপঢৌকন নিয়ে হাজির হতে থাকেন। সেগুলোর মধ্যে ছিল মুক্তরামের ‘মুক্তা’ আর তার দেওয়া ‘গাছা’। দুই মিলে বিনোদবাড়ির নতুন নাম হলো মুক্তাগাছা। এই নামকরণ করলেন জমিদার। মণ্ডার জন্য এই মুক্তগাছার নাম শুধু বাংলাদেশেই নয় বিশ্বের অনেক দেশেই পরিচিত। 

এই মিষ্টি তৈরি হওয়া নিয়ে দারুণ এক গল্প শোনা যায় : 

স্থানীয়দের মুখে মুখে যে গল্পটি শোভা পায় তা হলো, এক সন্ন্যাসী পর পর কয়েক রাত স্বপ্নে মণ্ডা তৈরির পদ্ধতি শিখিয়ে গোপাল পালকে আদেশ করেন, ‘গোপাল, কাল থেকে তুই এই জগতের মানবের খাওয়ার জন্য সুস্বাদু মণ্ডা তৈরির কাজ শুরু করে দে।’ গোপাল সন্ন্যাসীর স্বপ্নাদেশে এক শুভ দিনে মণ্ডা তৈরির কাজ শুরু করেন।

১২৩১ বঙ্গাব্দে রাম গোপাল পাল স্বপ্নে মিষ্টি তৈরির রেসিপি পান। এই মিষ্টি তৈরি করে মুক্তাগাছার বড় জমিদারদের একজন মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর নিকট পেশ করেন। এখন পর্যন্ত গোপাল পাল পরিবারের বংশধররা এই ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। রামেন্দ্রনাথ বলেন, জমিদার বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক এবং আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। সেখানে আগত অতিথিদের মন্ডা দিয়েই আপ্যায়ন করা হতো।

উপমহাদেশের প্রখ্যাত ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ডা. বিধানচন্দ্র রায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ ব্যাক্তিদেরকে মুক্তাগাছার জমিদার বাড়িতে আপ্যায়ন করা হয়েছে এই মণ্ডা দিয়ে। 

এছাড়াও রাশিয়ার জোসেফ স্তালিনকে মণ্ডা পাঠালে তিনি মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করেন এবং পাকিস্তানের আইয়ুব খান একে “পূর্ব পাকিস্তানকা মেওয়া“ বলতেন। আবদুল হামিদ খান ভাসানী মণ্ডার স্বাদে বিমুগ্ধ হয়ে তিনি চীনের মাও ৎসে-তুং এর জন্যও নিয়ে গিয়েছিলেন। মাও ৎসে-তুং এর স্বাদের প্রশংসা করেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও এর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধী, দ্বিতীয় এলিজাবেথ কেও আপ্যায়ন করা হয়েছে মণ্ডা দিয়ে। জিয়াউর রহমান, কাদের সিদ্দিকী ও কামাল হোসেন এর প্রিয় খাবারের তালিকায় ছিল মণ্ডা।

মুক্তাগাছার মন্ডা নিয়ে কিংবদন্তীরও অভাব নেই। শোনা যায়, জনশ্রুতি রয়েছে, মণ্ডা ছাড়া নাকি জমিদারদের সকালের খাবার হতো না। আর জমিদার স্ট্যাটের সব কর্মচারীদের দুপুরের জলখাবারেও রাখা হতো এই মণ্ডা।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়